সিলেটে পৌঁছেছে এমপি সামাদের মরদেহ

ডেস্ক রিপোর্ট;
  • Update Time : Friday, March 12, 2021
  • 42 Time View

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ বহনকারী বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সারকারখানা মাঠে অবতরণ করে।

সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আপামর জনতা। মরদেহ গ্রহণকালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে সেখানে। প্রিয় নেতাকে একটি বারের জন্য কাছে গিয়ে দেখতে চেষ্টা করেন অনেকে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এমপি সামাদের গ্রামের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুরে।

এরআগে মরদেহ গ্রহণ করতে সারকারখানা মাঠে উপস্থিত হন এমপি সামাদের পরিবারের সদস্যসহ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। বিকেল ৩টা পর্যন্ত মরদেহ তার বাড়িতে রাখা হবে। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন নেতাকর্মীরা।

বাদ আসর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কাসিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে এমপি সামাদের বাড়ির সামনের মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে এমপি সামাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ১৯৫৫ সালের ৩ জানুয়ারি ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুর সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং মাতা আছিয়া খানম চৌধুরী।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন:
সিলেট-৩ আসনে (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ) আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বিগত তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাকা প্রতীক নিয়ে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। তাই বলে হাল ছাড়েননি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিনি রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের মহাসচিব ছিলেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে এক লাখ ৭৬ হাজার ৫৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী ৮৩ হাজার ২৮৮ ভোট পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ৯৭ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী পেয়েছিলেন ৫৪ হাজার ৯৫৫ ভোট।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category