ফুলপুরে অবরুদ্ধ ৫ পরিবারের রাস্তার দাবিতে মানববন্ধন

বাহার উদ্দিন, ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি
  • Update Time : Thursday, March 4, 2021
  • 32 Time View

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর মেরামত করে পথ বন্ধ করে দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সহ ৫টি পরিবার গত ৫ দিন ধরে সম্পুর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। তাদের পথের দাবিতে মানবাধিকার কমিশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৪ মার্চ রোজ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে ।
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা ৫৬ শতাংশ জমিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জনাব আলীর কন্যা ইফফাত আরা সাথীসহ ৫টি পরিবার বসবাস করছেন বিগত কয়েক বছর ধরে। পাশের বাসিন্দারা পৌর আইন অমান্য করে বাসা বাড়ি করায় তাদের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে প্রায় ৮ বছর ধরে হাসপাতালের ভাঙা দেওয়ালের উপর দিয়ে যাতায়াত করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত রোববার দেয়াল মেরামত করে তাদের পথ বন্ধ করে দেয়ায় পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অবরোদ্ধ পরিবারগুলোর যাতায়াতের পথের দাবিতে মানবাধিকার কমিশন ফুলপুর শাখার উদ্যোগে এলাকাবাসি বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সামনে ময়মনসিংহ- হালুয়াঘাট মহাসড়কের পাশে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ সময় মানবাধিকার কমিশন ফুলপুর শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ্-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম তপন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা, শাহ্ জালাল বিপুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেবাশীষ তালুকদার শুভ, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান, মানবাধিকার কমিশন নেতা মাসুদ হোসাইন, তাজুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।মানববন্ধনে অবরুদ্ধ পরিবারের পথের দাবিসহ হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শণ করা হয়। যেমন, প্রতারক T.S.O এর প্রত্যাহার চাই, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রাস্তা দিতে হবে, বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ না করে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের রাস্তা কেন বন্ধ করা হলো ? হাসপাতালে দুর্নীতি বেড়েগেছে ইত্যাদি।
পরে ৫ জনের সাক্ষরে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শীতেষ চন্দ্র সরকার বরাবর স্মারক লিপি প্রধান করেন।

উল্লেখ্য, ফুলপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রোববার সকাল ৯ টায় কর্মবিরতির মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে সাথে রেখে সীমানা প্রাচীর মেরামত করেন। এতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ ৫টি পরিবার সদস্যরা অবরোদ্ধ হয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সর্বপ্রথম দেওয়ালের কাজ ধরার আগে রাতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ডা. রাশিদুজ্জামান খান ডা. প্রাণেশ চন্দ্র পন্ডিত স্যার হাতে ২ কেজি মিষ্টি নিয়ে আমার বাসায় এসে বলেন আপনার বাড়ির চারদিকে ভালো করে ব্যাড়া দেন। যেন বাহিরের মানুষ এদিক দিয়ে চলাফেরা না করতে পারে। যেহেতু আপনি এ হাসপাতালে কর্মরত আছেন এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তাই আপনাকে এদিক দিয়ে যাবার জন্য একটি রাস্তা করে দেব। হাসপতালের টি.এস.ও.স্যারের নির্দেশে আমরা প্রায় দেড় লাখ টাকা বেই করে বাসার চারদিক দিয়ে তার কাটার বেড়া দেই। যাতে করে আমরা ছাড়া আর কেউ এদিক দিয়ে যাত্রায়াত করতে না পারে । বেড়া দেওয়ার পর আমরা ভাঙ্গা দেয়াল (ওয়াল) ডিঙ্গিয়ে চলাফেরা করছিলাম । ওয়াল ডিঙ্গিয়ে চলাফেরা করি বলে তিনি বলেছিলেন আমাদেরকে দু ফুট এর একটি গেইট করে দিবে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান খান তার মাথার চিকন বুদ্ধি দিয়ে এ ৫টি পরিবারকে ঘরবন্দি(রাস্তা বন্ধ) করেছেন। তাহলে কেন উনি তাদের আর্থিক অর্থের ক্ষতি করেও কোনো সমাধান দেনি। বরং পার্শ্ববর্তী মানুষের সাথে শুত্রুতা সৃষ্টি করে দিলো।
এ বিষয়ে হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাশিদুজ্জামান খান এর সাথে বারবার যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করলেও উনার সাথে কোন কথা বলা যায়নি। কিন্তু কর্মরত অনেক ডাক্তাররা জানান, হাসপাতালে কোয়াটার থেকে প্রায়ই টাকা, মোবাইল সহ নানা জিনিস চুরি হওয়ার কারণে হাসপাতালে প্রধান গেইট ছাড়া কোন দিক দিয়েই রাস্তা রাখা হয়নি।
কর্মবিরতি দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে পূর্বপাশের এ ভাঙ্গা দেয়াল তোলা হল কেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে উনারা বলেন, কিছুদিন আগে এ ওয়াল তোলাকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের একজন আমাদেরকে মারতে এসেছিল। তাই আমরা কর্মবিরতির দিয়ে ও পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে দেওয়াল তুলেছি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category