জগন্নাথপুরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মানের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ : শংকিত কৃষকেরা

মোঃ রনি মিয়া জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
  • Update Time : Monday, March 8, 2021
  • 134 Time View

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমার ৮দিন পেরিয়ে গেলেও বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সোমবার (৮ মার্চ) পর্যন্ত জগন্নাথপুর উপজেলায় মাটি ভরাটের কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। তবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বলছে ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধো সম্পন্ন হয়েছে। হাওরপাড়ের কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানাযায়, জগন্নাথপুরে হাওররক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পি আই সি) গঠন নিয়ে শুরু থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
আওয়ামীলীগ নামধারী কিছু স্বার্থানেষীরা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কাজ ভাগিয়ে নেয়।
বিগত বছরে বাঁধের কাজে মুনাফা হয়নি বললেও বার বার একই ব্যাক্তিরা কাজ নিয়ে থাকে। ফলে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে, কাজে লোকসান হলে তারা কাজ নেয়ার জন্য এত তৎপর কেন?। নামে বেনামে এসব কাজে তারা সংশ্লিষ্ট। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারের উন্নয়নমূলক সকল বরাদ্ধে তাদের কোন না কোন ভাবে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব স্বার্থানেষীরা সংশ্লিষ্ট পাউবোর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সরকার কতৃক বরাদ্ধকৃত কৃষকের ফসল রক্ষার টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উটেছে।
এদিকে উপজেলার কিছু প্রকল্পে মাটি কাঁটার কাজ শেষ হয়েছে তবে এসব প্রকল্পে বাকী রয়েছে দুরমুজ দিয়ে মাটি শক্ত করা, ঘাস ও কলমি গাছ লাগানো। গত রবিবারের বৃষ্টি আর আকাশে মেঘ দেখে এখন শংকিত রয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবী, অনিয়ম, ভাগ- ভাটোয়ারা ও গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কাজের মান নিয়েও কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে।
কোন কোন বাঁধে কাজ করা হয়েছে বালু মাটি দিয়ে, যার ফলে বাঁধের কাজ হয়েছে দুর্বল । ৫, ৬,৭ নং পি আই সি সহ কয়েকটি বাঁধ বৃষ্টিতে কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
গত ২দিনের বৃষ্টিপাত আর আকাশে মেঘ দেখা দেওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।
ফসল হানির আশংকায় নিরঘুম রাত কাটছে উপজেলার কৃষকদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, বৃষ্টির পর যেসব বেড়িবাঁধে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে সেগুলো সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, হাওর ঘুরে বড় ধরনের কোন ফাটল কিংবা ধসের ঘটনা চোঁখে পড়েনি। ছোট খাটো ত্রুটি পিআইসিদের বলা হয়েছে ঠিক করার জন্য।
বাঁধ মেরামত কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান ,আমরা ঠিকমতোই বাঁধ মেরামত কাজের তদারকি করে যাচ্ছি। ৩৭ টি বেঁড়ি বাঁধের মধ্যে ২৬ টি বাঁধের মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন বাঁধ মেরামত কাজে অনিয়ম ও গাফিলতির কারন খোঁজে বের করে পিআইসি সংশ্লিষ্টদের নোটিশ প্রদান করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বাঁধ মেরামত কাজে কোনো ধরনের গফিলতি করা হলে আমরা কাউকেই ছাড় দেব না।
ঝুকিপূর্ন পিআইসির কাজ সার্বক্ষনিক তদারকি করে যাচ্ছি। আশা করি আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সবকটি বাঁধের কাজ সমাপ্তি করতে পারবো।
এব্যাপারে উপজেলার কৃষকরা বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করে বন্যায় ফসলহানির হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

ভোলার ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে তিনদিন আটক ১৩ টি মহিষ ও দুইটি গরু।
গরু মহিষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ, রয়েছে খাবার সংকট।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টায় ইলিশা ফাঁড়ির পুলিশ একটি ট্রাকসহ ফেরিঘাট থেকে আটক করেন।
মহিষের সাথে থাকা নুরে আলম নামের একজন কে কোর্টে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ও পটুয়াখালীর সিমানার চরে একটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় হত্যা হওয়া নুরু শেখের ছেলে একটি মামলা করেন ওই মামলায় শাজাহান গোলদার নামে একজন কে আসামী করা হয়।
মামলার পর থেকে শাহাজান গোলদার পলাতক থাকায় এই সুযোগে পটুয়াখালীর গলাচিপা ও ভোলার চরফ্যাশন সিমানার চর থেকে ১৩টি মহিষ ও দুইটি গরু লুট করে লালমোহনের এক ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেন আলী নামের এক লোক। ওই মহিষ ও গরু ইলিশাঘাট দিয়ে পাচারের কথা শুনে মহিষের মালিক পক্ষ ইলিশ ফাঁড়ি পুলিশের মাধ্যমে আটক করেন।
বর্তমানে মহিষের মালিক শাহাজান গোলদারের স্ত্রী জরিনা ও ভাই ফিরোজ তাদের মহিষ ও গরু সনাক্ত করলেও আইনী জটিলতায় পুলিশ মহিষ ও গরু আটক করে ফাঁড়িতে রেখেছেন।
এদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাচারকারীদের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা তদবির করতে দেখা গেছে ইলিশা ফাঁড়িতে।
শাহাজান গোলদারের স্ত্রী জরিনা বেগম বলেন, নির্ধারিত রাখাল ছাড়া মহিষের দেখাশোনা করা সম্ভব না এবং ১৩ টা মহিষের খাবার ইচ্ছে করলেই সংগ্রহ করা সম্ভব না, বাচ্চা মহিষগুলো মারা যেতে পারে। জরিনা আরো জানান মহিষগুলো লুট হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা একাদিকবার দুলারহাট ও গলাচিপা থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ আমাদের জিডি নেইনি আর সেই জিডি না থাকায় আমরা মহিষ সনাক্ত করলেও পুলিশ মহিষ দিচ্ছে না।
এবিষয়ে দুলারহাট থানার ওসি মুরাদ হোসেন বলেন মহিষ হারিয়েছে বিষয়টি আমি অবগত তবে আমাদের এড়িয়াতে না হওয়ায় জিডি নিতে পারিনি।
ইলিশা ফাঁড়ির ইনচার্জ আলী আজম বলেন, গরু মহিষগুলো আমরা কোর্টে পাঠাবো, কোর্ট যেই সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই হবে।

ভোলায় মহিষপাল নিয়ে তেলেসমাতি